2 জন পড়েছেন
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জলপাইতলা এলাকায় একই বৃদ্ধ দম্পতিকে চেতনানাশক খাইয়ে বা প্রয়োগ করে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিনবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ ঘটনায় স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামালসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদ খোয়া গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত্ম পরিবারের।
একই কায়দায় বারবার চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত্ম দম্পতি হলেন জলপাইতলা এলাকার বাসিন্দা কৃষক আব্দুল আলী (৭০) ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম। তাদের পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এই দম্পতি একাই বাড়িতে বসবাস করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই আব্দুল আলী ও তার স্ত্রীর অস্বাভাবিক ঘুম পেতে শুরম্ন করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ও ট্রাংক তছনছ করে সোনাদানা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
পরদিন সোমবার বিকেলে দীর্ঘ ঘুম শেষে আচ্ছন্ন অবস্থায় জেগে উঠে ঘরের আসবাব এলোমেলো দেখতে পান তারা। পরে ভাঙা গ্রিল ও ফাঁকা আলমারি দেখে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।
কৃষক আব্দুল আলী বলেন, 'সন্ধ্যার পরেই কেমন জানি ঝিমুনি আসছিল। তারপর আর কিছুই মনে নেই। দুপুরে ঘুম ভাঙলে দেখি জানালা ভাঙা, আলমারি খোল্তাসব শেষ।
ছয় মাসে তিনবার একই কায়দায় আমাদের সবকিছু লুট করে নিয়ে গেল।'
তার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, 'জীবনের শেষ সম্বলটুকুও চোরেরা নিয়ে গেল। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরেরা হয়তো খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে বা রাতে কৌশলে তা প্রয়োগ করে এই অপরাধ ঘটাচ্ছে। পরপর একই বাড়িতে এভাবে চুরি হওয়া কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
স্কুল শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরাধীরা বারবার একই কৌশল ব্যবহার করলেও রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে রাতে ঘুমানোর ভয় ঢুকে গেছে।
এদিকে শুধু এই একটি পরিবারই নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি তালা ভেঙে কিংবা অচেতন করে চুরির উপদ্রব বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাজাহান আলী জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত্ম শুরম্ন হয়েছে এবং জড়িদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।