11 জন পড়েছেন
হোটেল-রেস্তোরা সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট,
নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘন্টা শ্রমদিবসসহ অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুরাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টায় দিনাজপুরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল সাকিব মুবাররাত বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ মে সরকার হোটেল সেক্টরে নিম্নতম মজুরি গেজেট ঘোষণা করেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ মাস গেজেট কার্যকর করার ব্যাপারে কোন ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না ও শ্রমিকরাও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
বিগত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ
রংপুর খামারবাড়ী মোড়ে অবস্থিত আলম হোটেলের সহকারী বাবুর্চী শাওনকে হোটেল মালিক মিজানুর রহমান মুনু অতিরিক্ত কাজ করার কথা বলে (১৬ ঘণ্টা) শ্রমিকসম্মত না হওয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শাওনকে হত্যা করে। প্রতিষ্ঠানের মালিক আলম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং মালিককে গ্রেফতার করছে না।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, সারাদেশে প্রায় ৪০ লক্ষ হোটেল শ্রমিক এই সেক্টরে কর্মরত। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১২-১৬ ঘণ্টা কাজ করলেও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে মালিকরা। বাংলাদেশ শ্রম আইনে ২০০৬ এর ১১৩ ধারায় সপ্তাহে দেরদিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০০ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, ১০৮ ধারায় অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি প্রধানের আইনগত বাধ্যবাদকতা থাকলেও হোটেল রেস্টুরেন্ট বেকারি মিষ্টি শ্রমিকদের তা প্রদান করা হচ্ছে না। এমনকি শ্রম আইনে ১০১ ধারায় বিরতি ছাড়া একটানা ছয় ঘন্টার অধিক কাজ করানো নিষিদ্ধ থাকলেও শ্রমিকদেরকে একটানা ১০-১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করানো হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগ পত্র, পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বুক, ২(১০) ধারায় চাকরিচ্যুতজনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতি বছর চাকরির জন্য ৩০ দিনের (১০ বছর অধিক চাকরির সময়কালে ৪৫ দিনের) গ্রাচ্যুয়েটি, একটা ১৫ ধারায়
বছরের ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থতার জন্য ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য একদিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১৩ দিন উৎসব ছুটি এবং অন্যান্য আইন থাকলেও শ্রমিকদেরকে সকল আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ, অনেক প্রতিষ্ঠানে থাকার স্থান (বিশ্রাম) নেওয়ার কোয়ার্টার দিচ্ছে না। কিন্তু আইনে আছে শ্রমিক কাজে যোগদান করার পরে কোয়ার্টার দিবে অথবা কোয়ার্টার ভাতা দিবে যা গেজেটে উল্লেখ আছে।
শ্রমিকরা তাদের আইনগত অধিকার নিয়ে কথা বললেই মালিকরা কোনরকম আইনের তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করে দেন।
সরকার গত ৫ মে ২০২৫ তারিখ হোটেল সেক্টরের জন্য ন্যূনতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করলেও অদ্যবধি তা কার্যকর করা হয়নি। শ্রম আইনে ২৫৯ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ হতে ৫০,০০০ টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য ৩০ শে জুন ২০২৬ ডেডলাইন ঘোষণা করলেও তা কার্যকর না হওয়া এবং অতিক্রান্ত হয়ে প্রায় একমাস চললেও দৃশ্যত কোন ভূমিকা বা তৎপরতা আমরা দেখছি না।
স্মারকলিপিতে এ ব্যাপারে করকারখানা অধিদপ্তরের গতিশীল উদ্যোগ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানের সময়
হোটেল-রেস্তোরা সেক্টরে
সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান খান, উত্তরাঞ্চলীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ দেলুয়ার হোসেন সবুজ, সদস্য সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্মারকলিপি প্রদানের পর স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে রংপুরে হোটেল শ্রমিক শাওন হত্যাকারি মনু'র ফাঁসি, আইএলও'র কনভেনশন অনুযায়ী শ্রমিক পরিবারকে আজীবন আয়ের সমপরিমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোটেল-রেস্তোরা সেক্টরে
সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান খান, উত্তরাঞ্চলীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ দেলুয়ার হোসেন সবুজ, সদস্য সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সভায় হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে দলমত ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়। প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের উত্তরাঞ্চলীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।