1 জন পড়েছেন
গতকাল দিনাজপুর ব্রাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) কার্যালয়ে ধান রোপন যন্ত্রের (রাইস ট্রান্সপস্নান্টার) সেবা সম্প্রসারণ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সেবার মানোন্নয়নের লÿে আন্ত্মর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট বাংলাদেশ) আয়োজনে এমএসপিদের (মেশিনারী সার্ভিস প্রোভাইডার) "অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা" অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিমিট-বাংলাদেশ,দিনাজপুরের হাব ম্যানেজার কৃষিবিদ ড. খন্দকার শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মোঃ আফজাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএডিসি, ভিত্তি পাটবীজ খামার, দিনাজপুরের যুগ্ম পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ সুলতানুল আলম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ ও কারিগরি সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি, গাজীপুর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম।
কর্মশালায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং নিলফামারী জেলার মোট ৪০ জন আংশগ্রহনকারী উপস্থিত ছিলেন।অংশগ্রহনকারীগনের মধ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সেবা প্রদানকারী (এমএসপি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, প্রাইভেট সেক্টর (মেটাল এগ্রিটেক, আবেদিন ইকুইপ্টমেন্ট, উত্তরণ ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রাণ আরএফএল), ফাইনানসিয়াল ইনন্টিটিউট (এমবিএসকে) এবং অন্যন্য অংশীজন অংশগ্রহন করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধান রোপন যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার এবং দÿ সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় যান্ত্রিকীকরণ সেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধান রোপন যন্ত্রের সেবা প্রদানকারীদের সÿমতা বৃদ্ধি এবং ধান রোপন যন্ত্রের সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানা এবং সিমিট বাংলাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ প্রদান করেন।
প্রধান ফ্যাসিলিটেটর ড.এ কে এম সাইফুল ইসলাম তাঁর উপস্থাপনায় এমএসপিদের বাস্ত্মব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ,সম্ভাবনা এবং সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।তিনি অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষৎ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করার সুপারিশ উপস্থাপনা করেন।
বিশেষ অতিথি ড. মোঃ সুলতানুল আলম বলেন, ধান রোপন যন্ত্রের টেকসই সম্প্রসারণে মাঠ পর্যায়ের সেবা প্রদানকারীদের দÿতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ। সেই সাথে বিএডিসির ফার্মে ধান রোপন যন্ত্রের ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, এমএমপিদের অভিজ্ঞতা ও শিÿা ভবিষৎ কর্মপরিকল্পনা প্রনয়নে গুরম্নত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। সিমিট বাংলাদেশ, মাঠ পর্যায়ের ধান রোপন যন্ত্রের টেকসই সম্প্রসারণে ক্যাটালিস্টের ভুমিকা পালন করছে। তিনি ধান রোপন যন্ত্রের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রম সংকট মোকাবেলা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সকল স্টেকহোল্ডরকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী এমএসপিরা মাঠপর্যায়ে ধান রোপন যন্ত্রের পরিচালনা, সেবা সম্প্রসারণ, ব্যবস্যায়িক চ্যালেঞ্জ, কৃষকের চাহিদা এবং ভবিষৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহনকারীরা সেবার গুনগত মান উন্নয়ন এবং ধান রোপন যন্ত্রের সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও টেকসই ও সম্প্রসারণযোগ্য করার লÿ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
পরিশেষে, কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পারিক অজ্ঞিতা বিনিময়, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ধান রোপন যন্ত্রের সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করছে বলে মনে করেন কর্মশালার সঞ্চালক কৃষিবিদ এলানুজ্জামান কোরাইশী।
সিমিট বাংলাদেশকৃষি ÿেত্রে লাখসই কৃষি প্রযুক্তি, দÿ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কলা-কৌশল, আধুনিক প্রশিÿণ, উন্নত গম ও ভূট্টাসহ বীজ উদ্ভাবনে কৃষি বিজ্ঞানী ও অনান্যাদের দেশে-বিদেশে প্রশিÿণ দিয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কৃষি সেক্টরের শিল্প-উদ্যোক্তা তৈরিতে অনন্য অবদান রাখছে।