1 জন পড়েছেন
আবাদী জমির আইল আর কাদা-মাটি মাড়িয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের। চার-পাশ আবাদী জমিতে ঘেরা থাকায় কোনো চলা চলের রাস্তা নেই। ফলে প্রায় দুই কি:মি: দূর থেকে পায়ে হেঁটে চরম কষ্ট সয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।
এটি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধামইড় ইউনিয়নের নলদিঘী-মাটিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্য দিনের চিত্র।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুর্ভোগের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেমন কমছে, তেমনি প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এই মানবিক সংকটের সমাধানে স্থানীয় ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জরুরি সু-দৃষ্টি কামনা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
চারদিকে ফসলি মাঠ, নেই কোনো রাস্তা। বিদ্যালয়টি ধামইড় ইউনিয়নের ফসলি জমির মাঝখানে অবস্থিত হলেও সেখানে পৌঁছানোর জন্য কোনো স্থায়ী সরকারি রাস্তা তৈরি হয়নি। শুকনো মৌসুমে জমির আইল দিয়ে কোনো মতে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে চিত্রটি হয়ে ওঠে ভয়াবহ। চার দিকের আবাদী জমি পানিতে তলিয়ে গেলে বা কাদা-মাটি জমলে শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে আসা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার শিশুদের প্রায় দুই কি:মি: দূরবর্তী গ্রাম থেকে হেঁটে আসতে হয়। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে শিশুরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় জমির আইল থেকে পা পিছলে পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট হয়, জামা-কাপড় কাদায় মাখামাখি হয়ে যায়। ছোট ছোট শিশুদের এই অবর্ণনীয় কষ্ট প্রতি দিনকার। অভিভাবক ও শিক্ষকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম জানান, রাস্তা না থাকায় আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও কষ্ট নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে আসতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে একটি চলাচলের রাস্তা অত্যন্ত জরুরি।
কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টির আকুল আবেদন একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। কিন্তু নলদিঘী-মাটিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ মৌলিক এই অধিকার টুকু পাওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রকৃতির সাথে এবং প্রতিকূল যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে যুদ্ধ করছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, শিশুদের এই কষ্ট লাঘবে এবং বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করেন।
জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করে বা সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার পথ সুগম করতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।