1 জন পড়েছেন
এখন চলছে বর্ষার মওসুম। ইছামতি নদীও পানিতে ভরাট। দীর্ঘদিনেও এখানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ফেকু বানিয়ার ঘাটে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় একটি কাঠের সেতু নির্মান করে প্রতিদিন এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকুরিজীবিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। নদীর দুই পাড়ে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে কাঠের সেতুটির মাঝে মাঝে কাঠের তকতা পুরনো হলেও মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কাঠের সেতুটি। এলাকাবাসীরা এখানে ইছামতি নদীর উপর সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্বাধীনতার ৫৫বছর হলেও চিরিরবন্দর উপজেলার জোত সাতনালা ও দক্ষিণ আলোকডিহি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ইছামতি নদীর উপর ফেকু বানিয়ার ঘাটে বার বার আশ্বাস দিলেও আজও সেতু নির্মাণ করা হয়নি। তাই দূর্ভোগ কমাতে ঘাটে বার বার বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০২৪ সালে স্থানীয়ভাবে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছেন।
যাতায়াতকারীরা জানায়, চিরিরবন্দরের সাতনালা ইউপির জোত সাতনালা ও আলোকডিহি ইউপির দক্ষিণ আলোকডিহি গ্রামের মাঝে ফেকু বানিয়ার ঘাটে ইছামতি নদীর উপর ২০০ফুট দৈর্ঘ্যের এই কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।সরকারিভাবে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তৎকালীন চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কুমার সাহার উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এখন আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের এ কাঠের সাঁকোই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
জোত সাতনালা গ্রামের বানিয়াপাড়ার কৃষক ফেরদৌস আলী, ফয়েজউদ্দিন ফয়েজ, পন্ডিতপাড়ার আইনুল হক জানান, আমরা তো অবহেলিত। ভোটের সময় অনেকেই সেতু নির্মাণ আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলেই সেতু নির্মাণের কথা ভুলে যান।
আলোকডিহি ইউপির দক্ষিণ আলোকডিহি গ্রামের কিষ্টটহরির কৃষক আব্দুস সালাম (৫৪) জানান, আমার বাপ-দাদারাও এ ঘাটে বাঁশের সাঁকো দিয়েই নদীর দুইপাড়ে যাতায়াত করেছেন। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০২৪সালে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে সেতু নির্মাণ করা হলে স্থায়ীভাবে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হতো।
চিরিরবন্দরের সাতনালা ইউপি চেয়ারম্যান মো.এনামুল হক শাহ্ বলেন, সাঁকোটির দুই পাশে স্কুল ও মাদরাসা রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ এই সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। ভুক্তভোগী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেতু নির্মাণে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।