2 জন পড়েছেন
'কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়'্তএই স্স্নোগান নিয়ে দেশের এক প্রান্ত্ম থেকে অন্য প্রান্ত্মে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরম্নণ ফাহিম মুনতাসির। পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে হাঁটা শুরম্ন করে ২০ দিনে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছেছেন তিনি।
২৬ বছর বয়সী ফাহিম মুনতাসির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি মো. মফিজ মিয়া ও মাহমুদা আক্তার চৌধুরী দম্পতির বড় ছেলে। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন ফাহিম। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত তিনি।
'সোনালী সকাল' নামের একটি সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
পদযাত্রার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে ফাহিম মুনতাসির বলেন, 'পথে পথে মানুষের কাছ থেকে বেশ সাড়া পেয়েছি। শুধু গন্ত্মব্যে পৌঁছানোই আমার লক্ষ্য ছিল না; পথে পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করাও ছিল উদ্দেশ্য। লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
তিনি বলেন, 'পথ চলতে গিয়ে প্রাণীর প্রতি মানুষের অত্যাচারের কথাও শুনেছি। এত হাতি মারা যাওয়ার পেছনে তাদের দাঁত নিয়ে যাওয়াও অন্যতম কারণ। মূলত দাঁতের জন্যই হাতি মেরে ফেলা হচ্ছে। যেখানে সাপ থাকার কথা, সেখানেও সাপ নেই। লোকালয়ে উঠে আসা সাপও মেরে ফেলা হচ্ছে।
গত ১০ জুলাই টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রা শুরম্ন করেন ফাহিম। শুরম্নতে তার সঙ্গে ছিলেন আরো দুই সহযাত্রী। তবে ফেনীতে এসে তারা হাঁটা থামিয়ে দেন। এরপর একাই যাত্রা অব্যাহত রাখেন ফাহিম। পথে পথে বীজ বপন ও বৃক্ষরোপণও করেছেন তিনি।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে ফাহিম বলেন, 'আমি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের টেকনাফ থেকে সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত্ম পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরম্ন করি। পথে পথে বীজ বপন ও বৃক্ষরোপণ করেছি। এই পদযাত্রা কোনো রেকর্ড বা প্রচারণার জন্য নয়। এটি সুস্থ জীবন, হাঁটার অভ্যাস এবং পরিবেশ সচেতনতার একটি ছোট্ট আহ্বান।'
তিনি আরো বলেন, 'আমরা যত কম হাঁটছি, ততই বাড়ছে অসুস্থতা। আর অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু সংকট। তাই আসুন, অল্প দূরত্বে হাঁটি, প্রয়োজন হলে গণপরিবহন ব্যবহার করি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমাই। আমি চাই, মানুষ আমাকে নয়, এই বার্তাটিকে মনে রাখুক্তহাঁটা সুস্থ জীবনের ভিত্তি। পরিবেশ রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।'
তরম্নণদের উদ্দেশে ফাহিম বলেন, 'পরিবেশ রক্ষার কাজ বড় কোনো আয়োজন থেকেই শুরম্ন হতে হব্তেএমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত্মের মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিজের উদ্যোগেই এই পদযাত্রা করছি। পথে বন্ধু ও সুহৃদদের বাড়িতে রাতযাপন করেছি।
ফাহিমের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ ক্রমেই হাঁটার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়মিত হাঁটা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করাই তার পদযাত্রার মূল লক্ষ্য।
ফাহিমের বন্ধু মুহয়ি শারদ তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, 'কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়'্তএই স্স্নোগানকে সামনে রেখে টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছে ফাহিম। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অদ্ভুত প্রজাতির প্রাণী ফাহিম। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সাহায্য করার মধ্যে ফাহিম জীবনের সর্বোচ্চ আনন্দ পায়। যারা ফাহিমকে চেনে, তারা সম্ভবত সবাই একবাক্যে এই কথার সঙ্গে একমত হবে।'
ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় শারদ রো লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন কারণে ফাহিমের সঙ্গে তার 'অম্স্ন-মধুর' সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি টেকনাফ-তেঁতুলিয়া হাঁটার বিষয়েও তিনি ফাহিমের সিদ্ধান্ত্মের সঙ্গে একমত ছিলেন না।
তবে তিনি বলেন, 'একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ পরিবেশ রক্ষায় আমরা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিতে ব্যস্ত্ম, তখন পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে ফাহিমের এই অনন্য ও সাহসী উদ্যোগের অন্ত্মত প্রশংসা জানানো নাগরিক হিসেবে নিজের মৌলিক দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে।'
শারদ ফাহিমের সুস্থতা কামনা করে বলেন, 'ফাহিম সুস্থভাবে ফিরে আসুক। পরিবেশ রক্ষায় তার এই বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।'