2 জন পড়েছেন
জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র গরমে সারাদেশের মতো দিনাজপুরের বীরগঞ্জেও শুরু হয়েছে পাকা ও রসালো লিচু সংগ্রহের মহাব্যস্ততা। উপজেলার বিভিন্ন লিচু বাগানে এখন চলছে থোকায় থোকায় লাল টসটসে লিচু ভাঙা, বাছাই, ওজন করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর কর্মযজ্ঞ।
বাগানগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা। উপজেলার পাল্টাপুর, নিজপাড়া, শিবরামপুর, সাতোর, মোহনপুর ও ভোগনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে চলছে লিচু সংগ্রহ।
বাগান শ্রমিক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা গাছ থেকে লিচু ছিঁড়ে ঝুড়ি ও ক্যারেটে ভরছেন। পরে সেগুলো স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। অনেক শ্রমিক দৈনিক ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন।
কাজল গ্রামের লিচু চাষি মো. হযরত আলী বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে বোম্বাই ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রতি হাজার লিচু প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত গরমের কারণে কিছু এলাকায় লিচু ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলার কয়েকজন বাগান মালিক জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও লিচুকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। লিচুর মৌসুমকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, পরিবহন কর্মী ও ব্যবসায়ীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।
এদিকে সুস্বাদু ও রসালো দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতেও ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে লিচুর আবাদ বাড়ছে। এ বছর উপজেলায় ১৭১ হেক্টর জমিতে ৩৪৫টি লিচু বাগান রয়েছে। কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গুটি ঠিকমতো বড় হওয়া এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।