11 জন পড়েছেন
ট্যানারী মালিকদের কাছে বকেয়া না পাওয়ার পরেও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাজপুরে চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছে| এবার চামড়ার আমদানি ভালো ছিল| কিন্তু চামড়ার মধ্যে ল্যাম্পি রোগ হওয়ায় অনেক চামড়া কিনতে পারেনি ব্যবসায়ীরা| কিছু চামড়া ছাগলের কিনলেও বেশিরভাগই মানুষ দাম না পেয়ে ফেলে দিয়েছে| আবার কিছু চামড়া এক কাপ চায়ের দামে বিক্রি হয়েছে| এ অবস্থা জেলার বিভিন্ন স্থানে|
চামড়া শিল্প থেকে যেহেতু ˆবদেশিক মুদ্রা আসে তাই এ শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে সরকারের সুদৃস্টি দেওয়া জরুরী বলে জানালেন চামড়া ব্যবসায়ীরা|
এদিকে, জেলার ফুলবাড়ীতে নামমাত্র মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে| গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত| তবে একটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে এক কাপ চায়ের দামে, অর্থাৎ মাত্র ৫-১০ টাকায়| অনেকে দাম না পেয়ে ছাগলের চামড়া ছোট যমুনা নদীর ধারে আবর্জনার স্তূপে ফেলছেন|
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যে নির্ধারিত দাম দিয়েছে, এটা লবণযুক্ত চামড়ার দাম| লবণ দেওয়া থেকে শুরু করে পরিবহন, ওঠা-নামা সব মিলিয়ে একটি গরুর চামড়ায় ২০০-৩০০ টাকা খরচ পড়ে যায়|
চামড়া বিক্রি করতে আসা দেলওয়ার হোসেন বলেন, একটি ছাগলের চামড়া এনেছিলাম| দাম না থাকায় ফেলে দিয়েছি| একসময় এ দেশের চামড়া দেশের বাইরে রপ্তানি হতো, দামও ভালো পাওয়া যেত| অথচ এই শিল্প ধংস হতে চলেছে|
ট্যানারির মালিকদের দোষারোপ করে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী কোরবান আলী বলেন, তারা সরকারি দামে না কেনায় আমরাও কিনতে পারছি না| আকারভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় চামড়া কিনছি|
উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগর| যদিও দিন দিন ব্যবসা কমে গেছে এবং কেউ কেউ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে| এখানে শতাধিক ব্যবসায়ী ছিল কিন্তু বর্তমানে ২০জন ব্যবসায়ী চামড়া কেনাবেচায় টিকে আছে| এর সাথে মৌসুমী ব্যবসাী আছেন ১০০ থেকে ১৫০জন| সবধরনের পশুর চামড়া কেনা হলেও খরচ বেশী হওয়ায় ছাগলের চামড়া কেউ কিনতে চায় না|
দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের আহবায়ক কমিটির কয়েক সদস্য বলেন, এবার প্রকারভেদে প্রতিটি গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৭০০টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে| লবনের দাম, শ্রমিক খরচও বেশী এরপরেও ট্যানারীদের কাছে চামড়া বিক্রির পর টাকা থাকে বকেয়া| এই বকেয়া টাকা কবে পাবো তার ঠিক নাই| দিন দিন তাই এ ব্যবসায় ধস নামছে| ব্যবসায়ীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে|গত ৫বছরের মধ্যে এবার এখানে ভালো চামড়া কেনা বেচা হয়েছে| ল্যাম্পি রোগের কারনে চামড়া ট্যানারীরা নেয় না| তাই সেগুলো ফেলে দিয়েছে মানুষ|
দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সদস্য সচিব আবেদ আলী বলেন, কোরবানির গরু, ছাগল, খাসি ও ভেড়ার চামড়া কিনেছি| এবার পর্যাপ্ত চামড়ার আমদানি হলেও আমরা টাকার অভাবে কিনতে পারেনি| ট্যানারীদের কাছে পূর্বের পাওনা টাকা পায়নি| এতে দিন দিন ব্যবসায়ীরা পুজি অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে| এরপরেও এবার চামড়ার মধ্যে ল্যাম্পি রোগ হওয়ায় ওই চামড়া কেনা যায়নি| এরকম অনেক চামড়া ফেলে দিয়ে গেছে| ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন না| এখানে সরকারের সুদৃস্টি কামনা করি, যাতে চামড়া শিল্পের গৌরব ফিরে আসে|