8 জন পড়েছেন
রসালো লিচু খেতে যেমন সু¯^াদু| তেমনি দেখতেও অনেক সুন্দর| ফলের বাজারে এখন লিচুর কদরই আলাদা| আর এই রসালো, সু¯^াদু ও উন্নতমানের লিচুর বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র দিনাজপুর| দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় চলতি মৌসুমে লিচুর বাজারে দেখা গেছে রেকর্ড দাম| বিশেষ করে জনপ্রিয় চায়না-৩ জাতের লিচু খুচরা বাজারে প্রতি পিস ১০ টাকা থেকে ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুণতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১১০০ টাকা| যা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে|
উপজেলার বিভিন্ন বাগান ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর দাম অ¯^াভাবিক বেশি| বড় আকার, আকর্ষণীয় রঙ ও সু¯^াদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা সবসময়ই বেশি| তবে চলতি মৌসুমে ফলন কম হওয়ায় সরবরাহ সীমিত থাকছে| এতে বাগান পর্যায় থেকেই লিচু বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল্যে|
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও ˆবরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর গুটি ঝরে পড়েছে| এতে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায়নি| উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট ˆতরি হয়েছে| যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজার দামে| উচ্চ মূল্যের কারণে হতাশ সাধারণ ক্রেতারা| একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের অতিথি আপ্যায়ন কিংবা শিশুদের প্রিয় মৌসুমি ফল ছিল লিচু| এখন সেই ফল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে|
স্থানীয় গৃহিণী কোহিনুর বেগম বলেন, আগে অতিথি এলে লিচু রাখা ছিল ¯^াভাবিক ব্যাপার| এখন ১০০ লিচুর দাম এক হাজার টাকা—মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা বড় বোঝা|
একরামুল হক বাবু নামে এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চারা লিচু খেতে চায়| কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হচ্ছে| নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা আর কিছুই নয়|
আরেক ক্রেতা আল আমিন বলেন, আগে মৌসুমে দু-একশ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত| এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ১০০ টাকা লাগে| এভাবে চললে লিচু শুধু ধনীদের ফল হয়েই থাকবে|
কয়েকজন চাকুরিজীবী বলেন, ফলন কমেছে-এটা মানি| কিন্তু প্রতি পিস ১০-১১ টাকা| যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি| বাজারে লিচু দেখেই এখন আফসোস করতে হয়|
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে ১৩০টি বাগানে লিচুর চাষ হয়েছে| চায়না-৩ ও মাদ্রাজি জাতের লিচু থেকে ভালো ফলনের আশা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামগ্রিক উৎপাদন কিছুটা কমেছে|
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, লিচুর মৌসুম শুরুর পর থেকেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন| ˆচত্র-বৈশাখ মাসে বৃষ্টি এবং ˆজ্যষ্ঠ্য মাসে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় লিচু রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে| ফলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে| তিনি আরও জানান, চলতি বছর সু¯^াদু বেদানা লিচুসহ কয়েকটি জাত বিদেশে রপ্তানির জন্য আগ্রহ দেখা গেছে| আগ্রহী দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী লিচু পাঠানোর প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে|