২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর)। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মাইগ্রেশনের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু আজ
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট ও সনদের কপি, এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর।
কোন কলেজে ভর্তি ফি কত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিও ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং বিভাগীয় শহর, জেলা ও মফস্বল এলাকার ভিত্তিতে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর বা বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে এ ফি সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা। উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে বাংলা ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তিতে ৭ শতাংশ কোটা
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
নিশ্চায়ন করেনি ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী
গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে বলা হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে। তবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন নিশ্চায়ন না করায় প্রথম ধাপের ভর্তি থেকে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন তাদের ভর্তির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শেষ হওয়ার পর আবার আবেদন নেওয়া হবে। তখন যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করেনি, তারা নতুন করে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন