রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা তিনটি আলামতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে ওই ডিএনএ কার, তা এখনো সুনির্দিষ্ট হয়নি। এ অবস্থায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ের ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হচ্ছে।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মহানগর ডিবির বিশেষ প্রহরায় আসামিদের ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
রংপুর মহানগর ডিবির প্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্যই আসামিদের ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ শেষে তাদের পুনরায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট দিবাগত ভোরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম আয়ুশ চক্রবর্তীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের কোনো খোঁজ না পেয়ে ২২ আগস্ট রাতে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী বাড়িতে এসে ঘর বন্ধ দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আটক করা হলে তারা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে ২৩ আগস্ট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা।
প্রথমে কোতোয়ালি থানা তদন্ত করলেও দ্রুত চার্জশিট দেওয়া ও অধিকতর তদন্তের লক্ষ্যে পরবর্তীতে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, আলামত থেকে সংগৃহীত ডিএনএর ফলাফলের সঙ্গে আসামিদের জবানবন্দি মিলে গেলে মামলার তদন্তে একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যুক্ত হবে। রোববারের এই পদক্ষেপকে আলোচিত এই চার খুন মামলার তদন্তের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন