9 জন পড়েছেন
সবেমাত্র ফজরের নামাজ শেষ হয়েছে| চারদিকে আধোআলো-আধো অন্ধকার, নিস্তব্ধ পরিবেশ| তখনও অনেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন| এরই মধ্যে তারা একে একে মাঠে আসতে শুরু করেছেন| কেউ মাঠের চারপাশে দৌড়াচ্ছেন, কেউ শরীরচর্চা করছেন, আবার কেউ ফুটবল পায়ে নিয়ে একাই অনুশীলনে ব্যস্ত|
কিছুক্ষণ পর ভোরের আলো ফুটতেই নানা বয়সী খেলোয়াড়দের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে খেলার মাঠ | মাঠের এক পাশে কিশোররা ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে, অন্য পাশে বয়স্কদের শরীরচর্চা ও ফুটবল খেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ| এমন দৃশ্য প্রতিদিন দেখা মেলে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে|
জানা গেছে, প্রতিদিন মাঠে খেলতে আসা ব্যক্তিদের একটি ফুটবল দল রয়েছে| তারা এর নাম দিয়েছেন ‘ভোরের ফুটবল”| নানা বয়সী মানুষকে নিয়ে গঠিত এই দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ জন| তবে তাদের দেখে অনুপ্রনিত হয়ে এ দলের সদস্য সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে| তাদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরাও রয়েছেন| এ যেন নবীন-প্রবিনের মেল বন্ধন|
প্রতিদিন ভোরে তারা মাঠে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য একত্রিত হন| সবার গায়ে থাকে একই ধরনের জার্সি| শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই তাদের মূল লক্ষ্য| নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা শেষ করে তারা বাড়ি ফিরে নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান| এভাবেই চলে তাদের প্রতিদিনের রুটিন| দলের সদস্যরা জানান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেই তারা নিয়মিত মাঠে আসেন|
দলের সদস্য নুরুজ্জামান বলেন, সুস্থ থাকতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই| প্রতিটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি| শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতেই আমাদের এই মিলনমেলা| ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আমাদের সুস্থ থাকার লড়াই| দিনের শুরুটা যদি এমন হয়, তাহলে পুরো দিনটাই কাটে চনমনে| বয়স কিংবা ব্যস্ততা-কোনো কিছুই মাঠের এই আনন্দ ও বন্ধুত্বকে থামিয়ে রাখতে পারে না| আমরা সবাই মিলে যেন একটি পরিবার|
তিনি আরও বলেন, সন্তানদের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহী করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব| খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও বিকশিত হবে এবং জীবনকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে শিখবে|