7 জন পড়েছেন
পঞ্চগড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত টাস্কফোর্স অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে ৪ আসামীকে হ্যান্ডকাপ সহ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় এঘটনাটি ঘটে।
মামলার আসামীরা হলেন জেলা শহরের রাজনগর এলাকার জয়নাল (৪২), একই এলাকার শাহেন শাহ (৩৬), পুরাতন ক্যাম্প এলাকার হাসিবুর রহমান (২৫), একই এলাকার পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব দিপু ইসলাম (৩৭)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সহ টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়। এসময় জেলা শহরের হাজী মার্কেটের একটি পরিত্যক্ত দোকানে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে এক পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, অর্ধেক পিস ইয়াবা সহ কিছু মাদকসেবন সামগ্রী পাওয়া যায়। পরে তাদের শের-ই- বাংলা পার্কে নিয়ে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে আসামীদের গাড়িতে তোলা হলে ২০/২৫ জন লোক তাদের হ্যান্ডকাপ সহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তাদের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছ থেকে আবারো গ্রেপ্তার করা হয়। হ্যান্ডকাপ দুটি কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। রাতে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাদের নামে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।
অভিযানে ইট পাটকেল ছোড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সিপাহী ফাহিমুর রহমান, মোসাদ্দেক আলী, তরিকুল ইসলাম ও ব্যাটালিয়ন আনসারের নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দিন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
এবিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ৪ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা দিপু ইসলাম বলেন, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে রাস্তা থেকে ধরে আনা হয়েছে। আমি ওদের সাথে ছিলাম না।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, আমরা পঞ্চগড়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারাই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।