8 জন পড়েছেন
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর দিনাজপুর সেক্টরের অধীনস্থ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০বিজিবি), ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯বিজিবি) এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত ১০কোটি ৮২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে|
২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’কে সামনে রেখে গতকাল ২৫জুন বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ মাঠে ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ আয়োজন করা হয়|
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম| এছাড়াও বিজিবির রংপুর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন|
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকদ্রব্য একটি নীরব ঘাতক|এটি মানুষের মেধা ও ˆনতিকতাকে ধ্বংস করে, বিশেষ করে তরুণ সমাজ যখন মাদকের করাল ছোবলে আক্রান্ত হয়, তখন একটি জাতির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতও ঝুঁকির মুখে পড়ে| বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে| তাঁদের সাহস, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের ফলেই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে| আজকের এই মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ কার্যক্রম সেই সাফল্যেরই বাস্তব প্রতিফলন|
এছাড়াও রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ| আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের ¯^প্ন, মেধা ও ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই মাদক| একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের জীবন নয়, তার পরিবার ও সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে| বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত ব্যবহার করে অসাধু চক্র বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে|দেশের ¯^ার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ¯^ার্থে এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিজিবি দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ| তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন|
পরবর্তীতে আমন্ত্রিত অতিথিগণ নিজ হাতে বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংসের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন|
অনুষ্ঠানে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) কর্তৃক ৫ ডিসে¤^র ২০২৩ হতে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ হতে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) কর্তৃক ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ হতে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়|ধ্বংসকৃত ধ্বংসকৃত এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১০ কোটি ৮২ লক্ষ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা|
ধ্বংসকৃত উল্লেখযোগ্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৩,১৯০ বোতল ফেন্সিডিল, ৯৭ বোতল ফেন্সিগ্রিল, ৩৯৬ বোতল ফেন্সিগ্রিপ, ৪,৫১১ বোতল ফেয়ারডিল, ১৪৫ বোতল এসকেডিল, ৭৭০ বোতল এমকেডিল, ৮,৯৬২ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশি মদ, ৫১৬.৭৫ লিটার দেশি মদ, ৬৭২ প্যাকেট বিদেশি মদ জাতীয় জুস, ২০,৪১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬৭,৪৬৬ পিস কুপিজেসিক ইনজেকশন, ২৯,৮৩০ পিস বিভিন্ন নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ২,৪৮,০৫৯ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ১৪০ গ্রাম কোকেন, ১০ গ্রাম হেরোইন, ৪৫,৮৬৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৭,০০০ পিস বুফেরাফিন ট্যাবলেট, ৪,৫৭৫ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২৪ বোতল আরসিক্যাপ, ২ বোতল ইউনরেক্স সিরাপ, ৩.৩৭৭ কেজি গাঁজা, ১,০৫,৭৪৬ বোতল বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক সিরাপ, ১,২৮৬ বোতল হোমিওপ্যাথিক সিরাপ, ৫,৩৪,১১৭ পিস মদ ˆতরির ট্যাবলেট, ৭৭৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি এবং ৭,২০০ পিস জর্দা|
এসময় অনুষ্ঠানে বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, পিবিজিএমএস, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান উপস্থিত ছিলেন|
এছাড়া দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ সেক্টর সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও সকল স্তরের বিজিবি সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন|