9 জন পড়েছেন
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দিন দিন বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা| চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের ¯^জনরা ওয়ার্ড, কেবিন, লিফট ও বারান্দা থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ করছেন| এক সপ্তাহে অন্তত সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে| এতে রোগী ও ¯^জনদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে|
সরেজমিনে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা গত ১৮ জুন অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন| কিছু সময়ের জন্য কেবিনের বাইরে গেলে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে কেবিনে প্রবেশ করে তার মানিব্যাগ ও নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়| পরে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন|
মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর থানায় জিডি করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি| একই দিনে আরও দুজন চুরির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন|
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন| অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে| চুরির শিকার হওয়া রোগীর ¯^জন ফয়সাল জানান, মেডিসিন বিভাগে যাওয়ার সময় লিফটে ওঠার পর নিচে নেমে দেখেন তার মানিব্যাগ নেই|
আরেক ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, রোগীকে দেখতে হাসপাতালে এসে তার হাতে থাকা ব্যাগ এক যুবক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়| এ কারণে হাসপাতালে সবসময় আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে|
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে|
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, চুরি প্রতিরোধে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রয়েছে| এছাড়া আগামী মাসের শুরু থেকে ৩০ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন| তিনি রোগী ও ¯^জনদেরও মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান| হাসপাতালে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় রোগী ও ¯^জনরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন|