5 জন পড়েছেন
একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৯৫ সালে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, আজ ২০২৬ সালের জুনের এই তপ্ত দুপুরে এসে তার সমাপ্তি ঘটল।
বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন স্যার আজ তাঁর সুদীর্ঘ ৩১ বছরের গৌরবময় চাকরী জীবন থেকে অবসর নিলেন। স্বপ্নের ভিত্তিপ্রস্তর ও সংগ্রাম ১৯৯৫ সালে যখন এই অঞ্চল শিক্ষার আলো থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিল, তখন মহিউদ্দিন স্যার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার গুরুদায়িত্ব। শূন্য থেকে শুরু করে নিজের মেধা, শ্রম এবং অক্লান্ত ত্যাগের বিনিময়ে তিনি গড়ে তোলেন বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। জীবনের সেরা ৩১টি বছর তিনি উৎসর্গ করেছেন এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটের পেছনে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের তরে। অশ্রুসিক্ত দুপুরের বিদায় বেলা আজ দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। বিদায়ের ঘণ্টা যখন বাজল, তখন আর কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বর্তমান শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী এবং সহকর্মী শিক্ষকদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়লগ্নে সবাই তাঁর পা ছুঁয়ে সালাম করেন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।শিক্ষার আঙিনায় এক জীবন্ত কিংবদন্তি ৩১ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় মহিউদ্দিন স্যার শুধু একজন প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষকদের পথপ্রদর্শক এবং এলাকার শিক্ষার আলো ছড়ানোর মূল কারিগর। তাঁর হাত ধরে হাজারো শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
বিদায় বেলায় প্রিয় স্যারের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেও তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিটি ধূলিকণায় এবং হাজারো শিক্ষার্থীর হৃদয়ে।
মহিউদ্দিন স্যার-এর প্রাতিষ্ঠানিক বিদায় মানেই তাঁর অধ্যায়ের শেষ নয়। বিরল অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য তিনি আজীবন শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন। তাঁর গড়া এই বিদ্যাপীঠ এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই আগামী দিনে হাজারো শিক্ষার্থীকে পথ দেখাবে।
মহিউদ্দিন স্যার বলেন, আমি শুধু একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইনি, আমি চেয়েছিলাম একদল সৎ ও আদর্শ মানুষ তৈরি করতে। আজ কর্মক্ষেত্র থেকে বিদায় নিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু আমার প্রাণ পড়ে থাকবে এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ধূলিকণায়, প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে। তোমরা যেখানেই যাও, সৎ থেকো এবং দেশের কল্যাণ করো।