6 জন পড়েছেন
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে| ফলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকেরা| তবে বৃষ্টি হলেই এখানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়| আর প্রচণ্ড রোদে খোলা মাঠে বসে ক্লাস করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে শিক্ষার্থীরা|
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে গাছের ছায়ায় পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা| হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বই-খাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়| আবার প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেক সময় পাঠদান বন্ধও রাখতে হয়|
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল| সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে আসে| ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা দেয়| এরপর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ|
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোদে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়| বৃষ্টি এলেই বই-খাতা নিয়ে দৌড়ে অন্য জায়গায় যেতে হয়| ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না| দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের|
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকের বাবা নুর জামাল বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার জন্য আমরা খুবই চিন্তিত| ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠানো যায় না, আবার খোলা মাঠেও নিয়মিত ক্লাস সম্ভব নয়| দ্রুত একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা উচিত|
সহকারী শিক্ষক আরফিনা বেগম বলেন, খোলা মাঠে ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া পাঠদান করতে হচ্ছে| লিখিত কাজ করানোও সম্ভব হচ্ছে না| বৃষ্টি বা অতিরিক্ত রোদে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়| এতে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে|
প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে| বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে সীমিত পরিসরে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে| তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়| দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ এবং নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন|
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে| শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে| পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শিগগিরই চাহিদাপত্র পাঠানো হবে|’