7 জন পড়েছেন
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৩ নং ধামইর ইউনিয়নের গিরিধরপুর গ্রামে এখন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ঝুলছে বিষমুক্ত, সতেজ ও উন্নত জাতের বেগুন। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এসএসিপি-আরএআইএনএস প্রকল্পের ছোঁয়ায় এই অঞ্চলের কৃষিতে লেগেছে আধুনিকতার হাওয়া। প্রকল্পের আওতায় গঠিত গিরিধরপুর বেগুন উৎপাদনকারী কৃষক সংগঠন এর কৃষকেরা এখন দলগত প্রচেষ্টায় বেগুন চাষ করে নিজেদের ভাগ্যবদল করছেন।
এই কৃষি বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর হিসেবে কাজ করছে, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিরল এর এক ঝাঁক উদ্যমী কর্মকর্তা বা টিম ডিএই। উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের একত্রিত করে দল গঠন থেকে শুরু করে উচ্চ মূল্যের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা, আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে কৃষকদের সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
বিরল উপজেলার সামগ্রিক কৃষি খাতকে জলবায়ু সহনশীল, আধুনিক ও লাভজনক করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার। তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় বিরলের কৃষকেরা সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে বাণিজ্যিক কৃষির দিকে ঝুঁকছেন। মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়নে এবং গিরিধরপুরের বেগুন চাষিদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফরোজা হক আঁখি। কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও সঠিক দিক নির্দেশনা কৃষকদের মাঝে জুগিয়েছে নতুন আত্মবিশ্বাস।
কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো উচ্চ মূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারজাত করণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানো। গিরিধরপুর বেগুন উৎপাদনকারী কৃষক সংগঠনের সদস্যরা এখন পরিবেশ বান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি (যেমন- সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ, মালচিং পেপার ও জৈব বালাইনাশক) ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে মানসম্মত বেগুন উৎপাদন করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গিরিধরপুর কৃষক সংগঠনের স্থানীয় চাষিরা অত্যন্ত আনন্দিত।
তারা জানান, আগে তারা একাকী চাষবাস করতেন এবং সঠিক বিপণন ও প্রযুক্তির অভাবে আশানুরূপ লাভ পেতেন না। কিন্তু এখন দল গত ভাবে চাষ করায় এবং ‘টিম ডিএই’ বিরলের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মান সম্মত বীজ, সার ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাওয়ায় বেগুনের ফলন হয়েছে বাম্পার। সরাসরি বাজারে বড় পাইকারদের সাথে লিংকেজ তৈরি হওয়ায় তারা বেগুনের সঠিক মূল্যও পাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই, ক্লাইমেট-স্মার্ট ও লাভজনক কৃষির এই মডেলটি এখন পুরো বিরল উপজেলার অন্য কৃষকদের জন্যও এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গিরিধরপুরের কৃষকদের এই বেগুন উৎপাদনের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক নেতৃত্ব, সরকারি সহযোগিতা এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।