4 জন পড়েছেন
বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে থাকা পঞ্চগড়ের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায়। দেয়ালের বড় বড় ফাটল, খসে পড়া পলেস্ত্মারা আর বেরিয়ে আসা রডে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় তাই শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- খসে পড়ছে ভবনের পলেস্ত্মারা, বেরিয়ে এসেছে রড। একই সাথে বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত জুন মাসে বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্ত্মারা খসে পড়ে এবং রড বেরিয়ে আসে। পাশাপাশি দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। দুর্ঘটনা এড়াতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান বন্ধ রেখে খোলা আকাশের নিচে চালানো হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থী- শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, যে কয়েকজন শিক্ষার্থী এখনো স্কুলে আসে, তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই। বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরম্ন হলে বই-খাতা নিয়ে ছুটতে হয় পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে। আবার রোদের প্রচ- তাপেও ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত্ম অন্ত্মত একটি অস্থায়ী ক্লাসরম্নম নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বস্ন্যাকবোর্ড ছাড়াই ক্লাস নিতে হচ্ছে। ঠিকমতো লিখিত কাজও করানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত্ম হচ্ছে।
বিদ্যালয় সংশিস্নষ্টদের দাবি, এনিয়ে ৫২টি চিঠি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দেয়া হলেও কোন সুরাহা মেলেনি। সকলের দাবি, দূর্ঘটনা এড়াতে দ্রম্নত ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করার।
এদিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভিন বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্ত্মাব পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে আপদকালীন সময়ে পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে মাঠের পাশে অস্থায়ী চারটি কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটি। ২০২০ সাল থেকে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।