6 জন পড়েছেন
দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে দিনাজপুরের হিলি বন্দরের আমদানি বাণিজ্য। কয়েক মাস আগেও এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও এখন এই সংখ্যা নেমে এসেছে এখন ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে। এতে বন্দরের দৈনন্দিন আয় যেমন কমেছে তেমনি কর্মহীন হয়ে পড়েছে বন্দরের কয়েকশ শ্রমিক। এ ছাড়া বিরূপ প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়েও। চলতি অর্থবছরে হিলি বন্দরে রাজস্ব ঘটতির পরিমাণ সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা।
উত্তরাঞ্চলের সব চেয়ে বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হিলি স্থলবন্দর। যেখানে একসময় চলত হাজারো মানুষের কর্মব্যস্ত্মতা। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকে ঠাসা থাকত বন্দরের পুরো ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ড। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত্ম থেকে শত-শত ব্যবসায়ীরা যেতেন হিলি বন্দরে পণ্য কিনতে। কিন্তু সেই বন্দরে এখন যেন সুনসান নীরবতা। নেই ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল, কমেছে আমদানিকারকদের আনাগোনাও। ফাঁকা পড়ে আছে ইয়ার্ড, স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি বাণিজ্য। কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের শত-শত শ্রমিক। তাদের দিন কাটছে অলস সময়ে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু জানান, ডলারের উচ্চমূল্য ও ভারতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য আমদানি করে কাঙ্িক্ষত লাভ মিলছে না। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এর পাশাপাশি, পণ্য খালাসে কাস্টমসের হয়রানিকেও আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্ত্মোষ সরেণ জানান, এলসির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বন্দরে এই মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। কমেছে রাজস্ব আদায়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছর শেষে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। যার আগের অর্থ বছরেও এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।
কাহারোলে কৃষি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ চলছে
প্রান্ত্মিক কৃষককে সরকারি কৃষি সেবা সহজ ও দ্রম্নত পৌছে দিতে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার প্রথম পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার হতে। কৃষি বিভাগ জানায়, এই কার্যক্রম আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত্ম রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের কৃষকদের মাঝে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ খুরশিদ হাসান, ইউপি সদস্য মাজেদুর রহমান, ইউপি সদস্যা নুর নেহার। অনুষ্ঠানে বলা হয় কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। এতে সরকারি কৃষি প্রণোদনা ভুর্তুকি, বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও সহজভাবে কৃষকদের কাছে পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে। এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ইউনিয়নে পরিচালিত হবে। এই জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।