4 জন পড়েছেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আজকে রাজনীতির প্রধান প্রশ্ন হলো- দেশের মূল সংকটটি কোথায়? ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার ও সংসদ গঠিত হলেও জনগণের আকাঙ্খা ছিল একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু বিগত পাঁচ মাসে দলীয়করণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ভিন্নমতের ওপর নিপীড়ন যেভাবে ফিরে আসছে, তাতে প্রশ্ন জাগে-আমরা কি সেই পুরোনো অন্ধকারেই ফিরে যাচ্ছি? তিনি বলেন, যে দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের বিরম্নদ্ধে আমরা রাজপথে রক্ত দিলাম, হাজারো মানুষ জীবন দিল ও আহত হলো, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৫ কোটি মানুষ ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্ত্মাবের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে রায় দিয়েছিল। এই গণভোট ছিল জনগণের সরাসরি রায়ের প্রতীক, যা যে কোনো সংসদীয় আইনের চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং এ গণভোটের গণরায় বাস্ত্মবায়ন করতেই হবে।
২৩ জুলাই'২৬ বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমিতে দিনাজপুর জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে "জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোট: জন আকাঙ্খা বাস্ত্মবায়নে সরকারের দায় ও আমাদের করণীয়" শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, রংপুর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টীম সদস্য ও দিনাজপুর সাবেক জেলা আমীর মোঃ আনোয়ারম্নল ইসলাম, সাবেক দিনাজপুর জেলা আমীর মোঃ আফতাব উদ্দীন মোলস্না, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ রাজিবুর রহমান পলাশ, দিনাজপুর জেলা এনসিপি আহবায়ক শামছুল মুক্তাদির, জাগপা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরম্নল কায়েস রম্নপম, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম, দিনাজপুর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ডক্টর শামসুজ্জোহা, এনডিএফ'র সাধারণ সম্পাদক ডা.আফসার আল মাহমুদ, দিনাজপুর শহর আমীর মাওলানা মোঃ সিরাজুস সালেহীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাবেক সমন্বয়ক মোঃ একরামুল হক আবীর, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ জাকিরম্নল ইসলাম, দিনাজপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা, ইসলামী ছাত্রশিবির হাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল হক সহ ১১ দলীয় ঐক্য দিনাজপুর জেলার নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, অনেকে দাবি করছেন এই সংস্কার ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল। আমাদের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ আইনের মর্যাদাপ্রাপ্ত। তদুপরি, সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই জনগণের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন। তিনি বলেন, আজকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল সাধারণ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার সারতে চাইছেন, যা জুলাই সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো- গণভোটে দেওয়া জনগণের ৫ কোটি 'হ্যাঁ' ভোটের রায় ও ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্ত্মাব অবিলম্বে বাস্ত্মবায়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রের গুরম্নত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর জুলাই সনদের গণরায় এড়িয়ে গিয়ে পুনর্গঠিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার যে কোনো অপচেষ্টাকে রাজপথে ও সংসদে তীব্রভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি সকলকে সাম্য, ইনসাফ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত্ব আহবান জানিয়েছেন।