1 জন পড়েছেন
দিনাজপুর সদর উপজেলার ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের উলিপুর ও মহব্বতপুর এলাকায় ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে চাল কুমড়া। ফলন ভালো হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। তাদের দাবি, বর্তমান দামে উৎপাদন খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারি সারি চাল কুমড়া। দিনাজপুর সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নের উলিপুর ও মহব্বতপুর এলাকায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে বাজারদরের কারণে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি পিস চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখা সম্ভব হতো। কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম খুবই কম। ১৫-২০ টাকা হলে আমাদের কিছু লাভ থাকত। এখন ১০ টাকায় বিক্রি করে খরচই উঠছে না।"
খামারবাড়ি দিনাজপুর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো:আনিছুজ্জামান জানান, এ বছর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৮ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়া চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২৫ টন ফলন পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, এ বছর চাল কুমড়ার ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষকদের নিরাপদ সবজি উৎপাদনের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যদিও চাল কুমড়া বিদেশে রপ্তানি হয় না, তবে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় চাল কুমড়ো সরবরাহের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করে কৃষকরা ভালো লাভোবান হচ্ছে।
কৃষকদের প্রত্যাশা,বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। এতে তারা যেমন লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি আগামী মৌসুমেও চাল কুমড়া চাষে আগ্রহী হবেন।
"ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চাল কুমড়া চাষিরা। কৃষকদের দাবি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলে সবজি চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।