3 জন পড়েছেন
মাঠে মাঠে বাতাসে দুলছে সবুজ পাটগাছ, ক্ষেত হতে পাট ঘরে তুলতে নারী পুরুষ সকলেই অবিরাম মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে আর সেই সাথে হাটে হাটে ছড়িয়ে পড়েছে ধোয়া-শুকনো সোনালী আঁশের মিষ্টি গন্ধ।
অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা এবং কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় সোনালী আঁশের বুকভরা স্বপ্নে বিভোর উপজেলার চাষিরা।
উপজেলার ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ক্ষেত হতে পাট কাটা, পানিতে ভেজানো, আঁশ ছাড়ানো ও রোদে শুকানোর কাজে পার করছেন ব্যস্ত সময়।
স্থানীয় বাজারে শুভ্র ও ঝকঝকে আঁশ হাটে তোলার সাথে সাথেই চড়া দামে তা কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে এবার বড় অঙ্কের লাভের হিসাব কষছেন স্থানীয় পাটচাষিরা।
উপজেলার মোহম্মদপুর ইউনিয়নের পাটচাষী বেলাল হেসেন (৪৫) বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকা। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে ৩৫-৪০ হাজার টাকার পাট বিক্রি করা যাবে দাম ভালো প্রতি মন পাট ৪ হাজার উপরে বিক্রি করছি।
একই এলাকার কৃষক মুজিবুর রহমান (৬৫)বলেন, এ বছর শুরু থেকেই আবহাওয়া ভালো ছিল বিঘাপ্রতি ফলন চমৎকার হয়েছে। বাজারে যে হারে ভালো দাম যাচ্ছে, তাতে সব খরচ তুলে একটা বড় অঙ্কের টাকা লাভ থাকবে।
তবে সার্বিক পরিস্থিতি ইতিবাচক হলেও, কিছু এলাকার কৃষকরা পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া (পচানো) নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এদিকে পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের কদর বৃদ্ধি এবং সুতার চাহিদা বাড়ায় বাজার এবার শুরু থেকেই চাঙ্গা। ব্যবসায়ীদের আশা, সোনালী আঁশের এই সুদিন বজায় থাকলে বীরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় ৪৮১ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা এবং রোগবালাইমুক্ত আবহাওয়া নিশ্চিত হওয়ায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে সেই সাথে ভালো বাজারমূল্য পেয়ে কৃষকরা অনেক আনন্দিত।