1 জন পড়েছেন
অভাবের সঙ্গে লড়াই যেন তার জীবনের নিত্যসঙ্গী। শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের সন্তান হয়েও স্বপ্ন দেখতে থেমে যাননি সঞ্জয় দেবনাথ। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে এবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
তবে স্বপ্নের দুয়ারে পৌঁছেও অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল তার পথচলা। ভর্তি ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা, যা জোগাড় করা অসহায় পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সেই সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের কিছু সহৃদয় ব্যক্তি।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের ডাবরা জিনেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় দেবনাথ। তার বাবা অশ্বিনী দেবনাথ ও মা প্রভাতী দেবনাথ দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা, যিনি ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের লেখাপড়ার খরচ বহন করে আসছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অর্থসংকটে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি। এমন সংকটময় মুহূর্তে সঞ্জয়ের পাশে দাঁড়ান দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম এবং বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন।
১০ জুন বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন সঞ্জয় দেবনাথের হাতে এমপি সহায়তা তহবিল হতে ১০ হাজার টাকার ভর্তি সহায়তার চেক তুলে দেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সঞ্জয় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার খবরটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। কিন্তু ভর্তি ফি জোগাড় করতে না পারার চিন্তায় সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। মনে হচ্ছিল, হয়তো স্বপ্নটা আর পূরণ হবে না।চ্
তিনি আরও বলেন, “আমার পরিবারের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। এই সহায়তা না পেলে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটাই অনিশ্চিত হয়ে যেত। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
সঞ্জয়ের এমন সংগ্রামের কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন ভিক্টোরি প্লাস বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ের পরিচালক মো. সোহেল রানা। তিনি সঞ্জয়কে বিনামূল্যে ভর্তি কোচিংয়ের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতা করেন।
মো. সোহেল রানা বলেন, “সঞ্জয়ের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদ। অর্থের অভাবে তাদের স্বপ্ন থেমে যেতে পারে না। সমাজের সামর্থ্যবানদের উচিত এমন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো।