3 জন পড়েছেন
ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় গত এক মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম| গত ১৯মে সকাল থেকে এই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়|
খনি কতৃপক্ষ সেই সময় ১৫ দিনের মধ্যে চালু হওয়ার আশ্বাস দিলেও তা পারেনি| তারা বলছেন, ˆবশিক সংকটের কারনে শিপমেন্ট জাহাজ পেতে দেরি হয়েছে, সে কারনে পরিবহন করতেও সময় লাগছে|
জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী খনির ভূগর্ভে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহ করার দায়ীত্ব খনি কতৃপক্ষের| কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সময় মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় সংকটের কারণে এর আগেও ২০২২ও ২০২৫ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল| এছাড়াও বিস্ফোরকের অভাবে প্রথমবার ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাসএবং ২০১৮ সালে ৭ দিন খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল|
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২৫ মে দেশেরএকমাত্রভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিক ভাবে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে| প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোডিয়ামের সঙ্গে খনি কতৃপক্ষের ছয় বছরের চুক্তি করা হয়|
দ্বিতীয় দফায় ২০২১ সালের সেপ্টে¤^র মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ৬ বছরের পুনঃ চুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (মধ্যপাড় াপাথর খনি) কর্তৃপক্ষ| চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিনগড়েসাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান| প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ শিফটে পাথর উত্তোলনের কাজ করেন প্রায় ৮০০ শ্রমিক|
এদিকে, খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর উত্তোলন কাজ বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালু রয়েছে|
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, যেহুত এটি একটি এক্সক্লুসিভ পণ্য তাই পানি পথে আনতে হয়| ˆবশিক সংকটের কারনে শিপমেন্ট জাহাজ পেতে দেরি হয়েছে, সে কারনে পরিবহন করতেও সময় লাগছে| শিপ্ট সিংঙ্গাপুরের পথে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সে টিচিটাগাং পোটে পৌছে যাবে| আশা করা যায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের দিকে খনির উত্তোলন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে|
তিনি বলেন, মোট ৩০০ মেট্রিক টনের চাহিদা দেয়া হয়েছে| প্রথম পর্যায়ে ৮৮ মেট্রিক টন আসবে| তা দিয়ে ২ থেকে আড়াই মাস চলবে| এভাবে পর্যায় ক্রমে বাকি গুলো আসবে| ঝুকিপুর্ণ হওয়ার কারনে এই দ্রব্যটি আগে থেকে বেশিদিন মুজুদ রাখা যায়না|
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে| সেই সাথে পাথর বিক্রি কার্যক্রম চলছে| তবে চাহিদা অনুযায়ী সাইজ না থাকায় বিক্রি কিছুটা কম|