ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা কর্তৃক গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ জারিকৃত স্মারক নং-১৬.০২.০০০০.০৬১.০৩১.০০০.২২-২৬ মোতাবেক শতবর্ষের পুরোনো হাজী জামাতুল্যা ওয়াক্ফ এস্টেট (ইসি নং-৩৮১৪)-এর সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নবনিযুক্ত মোতাওয়ালী মোঃ ফায়সাল আমিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের মাধ্যমে বরণ করে নিয়েছেন দিনাজপুর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের লালবাগ ১নং জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুসল্লি বৃন্দ ও ওয়াক্ফ এস্টেটের ওয়ারিশগণ।
এ উপলক্ষে শুক্রবার পবিত্র জুম্মার নামাজ শেষে লালবাগ ১নং জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালবাগ ১নং জামে মসজিদ কমিটির সম্মানিত সভাপতি, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ জিয়াউল কায়সার বিপু; সহসভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ তাজুল ইসলাম; সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ সফিকুজ্জামান চৌধুরী; কোষাধ্যক্ষ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল কুদ্দুস; বিশিষ্ট গুণীজন ও সমাজসেবক মোঃ আক্তার আজিজ; সাধারণ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ সাদেকুর রহমান এবং সাধারণ সদস্য ও দিনাজপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পরপর চারবারের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রবিউল ইসলাম রবি। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও ওয়াক্ফ এস্টেটের ওয়ারিশগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ওয়ারিশগণ ও স্বার্থসংশিস্নষ্ট ব্যক্তিবর্গ অত্যন্ত উদ্বেগ ও বেদনার সঙ্গে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, হাজী জামাতুল্যা ওয়াক্ফ এস্টেটের দলিলের শর্তাবলি এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত দুই যুগের অধিক সময় ধরে এস্টেটটি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি বলে তারা মনে করেন।
তারা জানান, উক্ত ওয়াক্ফ এস্টেটের সর্বশেষ মোতাওয়ালস্নী মৃত এম. ওয়াজেদ আলী, পিতা: মৃত এম. সুজাত আলী, গ্রাম: লালবাগ, উপজেলা: দিনাজপুর সদর, জেলা: দিনাজপুর, গত ২৩/১২/২০১০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে এম. ওয়াজেদ আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বড় পুত্র মেহেরাব আলী চৌধুরী নিজেকে কখনো 'নায়েবে মোতাওয়ালী' আবার কখনো 'মোতাওয়ালী' হিসেবে পরিচয় দিয়ে উক্ত ওয়াক্ফ এস্টেটের প্রায় ৪০ (চলিস্নশ) বিঘার অধিক আবাদি জমির ফসল ও অন্যান্য আয় দীর্ঘ সময় ধরে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ভোগ করে আসছিলেন বলে তারা জানান।
উপস্থিত ওয়ারিশদের আরও অভিযোগ, উক্ত ওয়াক্ফ দলিলের শর্ত অনুযায়ী এস্টেটের আয় থেকে ওয়ারিশগণের প্রাপ্য অংশ বণ্টন, লালবাগ ১নং জামে মসজিদের প্রাপ্য অংশ প্রদান, প্রতি বছর রোজাদারদের খাবারের ব্যবস্থা এবং সরকারি কর ও ওয়াক্ফ প্রশাসনের নির্ধারিত ট্যাঙ্ পরিশোধ যথাযথভাবে করা হয়নি।
তাদের দাবি, বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার অজুহাতে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করা হয়েছে। ফলে একদিকে ওয়াক্ফ এস্টেটের সুবিধাভোগীরা তাদের ন্যায্য হক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা মনে করেন, অন্যদিকে সরকারও তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।নায়েবে মোতাওয়ালী নিয়োগ আদেশ বাতিল
এদিকে ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা কর্তৃক গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত স্মারক নং-১৬.০২.০০০০.০৬১.০৩১.০০০.২২-২৬-এ বলা হয়েছে, এম. মেহেরাব আলী চৌধুরী, পিতা-মৃত এম. ওয়াজেদ আলী, সাং-লালবাগ, দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর, এস্টেটবিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করায় এবং বর্তমানে এস্টেটের কোনো মোতাওয়ালী না থাকায়, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ের গত ১৯/০৯/১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখের ১২৮৪/দি: নং স্মারকপত্র মূলে জারিকৃত নায়েবে মোতাওয়ালী নিয়োগ আদেশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বাতিল করা হয়েছে। ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের পর মোঃ ফায়সাল আমিনকে হাজী জামাতুল্যা ওয়াক্ফ এস্টেটের জন্য সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত মোতাওয়ালী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ওয়ারিশ, মুসলিস্ন ও স্বার্থসংশিস্নষ্ট ব্যক্তিবর্গ নবনিযুক্ত মোতাওয়ালী মোঃ ফায়সাল আমিনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তারা বলেন, ওয়াক্ফ দলিলের শর্ত, প্রচলিত ওয়াক্ফ আইন এবং ওয়াক্ফ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে এস্টেটের সম্পত্তি সংরক্ষণ, আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ, সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য হক আদায় ও বণ্টন এবং লালবাগ ১নং জামে মসজিদের প্রাপ্য অংশসহ দলিলে নির্ধারিত ধর্মীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্ত্ববায়ন করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় উপস্থিত সকলে নবনিযুক্ত মোতাওয়ালী মোঃ ফায়সাল আমিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং তার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে হাজী জামাতুল্যা ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি ও আয় দলিলের শর্ত, আইন এবং সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হবেএমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত ওয়ারিশ ও মুসল্লিবৃন্দ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন